বিধিমালা সংশোধনঃ পণ্যবাহী সব নৌযানের রুট পারমিট লাগবে

0
57
বিধিমালা সংশোধন: পণ্যবাহী সব নৌযানের রুট পারমিট লাগবে

খবর৭১ঃ পণ্যবাহী জাহাজ, ট্রলার, স্পিডবোটসহ সব ধরনের নৌযানকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রুট পারমিট নেয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ জন্য জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট হারে ফি। রুট পারমিটে উল্লিখিত স্টেশন ছাড়া যাত্রী বা পণ্য ওঠানামা করা যাবে না।

এর ব্যত্যয় ঘটালে ওই নৌযানের মালিক বা কর্মচারীকে ইনল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্সের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সাজা পেতে হবে। এমন সব বিধান অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া) বিধিমালা-২০১৯ জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

এতদিন শুধু যাত্রীবাহী জাহাজের রুট পারমিট নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এ ছাড়া নতুন বিধিতে রুট অনুযায়ী কতটি নৌযান চলবে সেই সংখ্যাও নির্ধারণ করতে পারবে বিআইডব্লিউটিএ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

এ বিধিমালা সংশোধনের যৌক্তিকতা হিসেবে নৌ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নৌ সেক্টরে দুর্ঘটনা কমানো ও শৃঙ্খলা আনতে বিধিমালায় নতুন কিছু বিধি-উপবিধি সংযোজন করা হয়েছে।

এদিকে নৌযান মালিকরা জানিয়েছেন, নতুন এ বিধিমালা তারা মানেন না। পণ্যের গন্তব্য অনুযায়ী পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। কোনো দেশে পণ্যবাহী জাহাজের রুট নির্দিষ্ট করে দেয়ার নজির নেই। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসবেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নৌ সচিব মো. আবদুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, বিদ্যমান বিধিমালায় সব নৌযানের রুট পারমিট নেয়ার বিধান না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে, বিশৃঙ্খলা হয়। আমরা এসব কমিয়ে আনতে বিধিমালাটি সংশোধন করেছি। এতে দুর্ঘটনা কমবে, শৃঙ্খলা বাড়বে।

পণ্যবাহী জাহাজের রুট নির্দিষ্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব জাহাজ যেসব রুটে চলাচল করবে সেসব রুটের পারমিশন নেবে। প্রয়োজনে মালিকরা সারা দেশে চলাচলের রুট পারমিট চাইতে পারে।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে প্রণীত দ্য বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (টাইম অ্যান্ড ফেয়ার টেবিল অ্যাপ্রুভাল) রুলস সংশোধন করে গত সপ্তাহে ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া) বিধিমালা’-২০১৯ জারি করা হয়।

আগের বিধিমালায় শুধু যাত্রীবাহী লঞ্চের অনুকূলে রুট পারমিট বা সময়সূচি দেয়া হতো। বিআইডব্লিউটিএ সময়সূচি জারি করে। পণ্যবাহী জাহাজ, বালুবাহী বাল্কহেড, স্পিডবোট, ট্রলারসহ ইঞ্জিনচালিত অন্যান্য নৌযানের রুট পারমিট নেয়া বাধ্যতামূলক ছিল না।

নতুন বিধিমালায় লঞ্চের পাশাপাশি সব ধরনের নৌযানকে রুট পারমিট নিতে হবে। বিধিমালার তফসিল-৩-এ সারা দেশের নৌপথকে ১৫টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএর একজন পরিচালক বলেন, শুধু ভারতগামী পণ্যবাহী জাহাজ রুট পারমিট নিয়ে চলাচল করে।

এখন থেকে সব ধরনের নৌযান যেমন: মালবাহী কার্গো, বাল্কহেড, স্পিডবোট ও ট্রলারসহ অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত নৌযানকে নির্দিষ্ট রুটে চলার অনুমতি নিতে হবে। নতুন বিধিমালার ৩৩ বিধি অনুযায়ী, কোন রুটে কতটি এবং কী ধরনের নৌযান চলবে সেই সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে পারবে। আরেক পরিচালক জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ইচ্ছেমতো সংখ্যক স্পিডবোট চলাচল করে।

এতে দুর্ঘটনা ঘটছে। নতুন বিধিতে এসব রুটে স্পিডবোটের সংখ্যা বেঁধে দেয়া যাবে। তিনি আরও জানান, বিধিমালাটি বিজি প্রেসে ছাপা হয়েছে। এটি এখনও আনা হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আনার পর তা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হবে।

নতুন বিধিমালার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দীন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, এ বিধিমালা আমরা মানি না। আমাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

সড়কপথে চলতে ট্রাকের কী রুট পারমিট আছে? তাহলে নৌপথে কেন পণ্যবাহী জাহাজে নির্দিষ্ট রুটের অনুমোদন নিতে হবে। যেখানে ট্রিপ পাবে সেখানেই কার্গো যাবে- এটাই ব্যবসার ধরন। বিধিমালা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বলেন, বিধিমালার গেজেটের কপি আমাদের দেয়া হয়নি।

এটি পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত জানাব। আরও জানা গেছে, নতুন বিধিমালায় নৌযানকে এক বছরের জন্য রুট পারমিট দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কার্গো ভেসেল, কোস্টাল ভেসেল, অয়েল ট্যাংকার, কোস্টাল ট্যাংকার বা কনটেইনার জাহাজের রুট পারমিটের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। তবে সার্ভে (ফিটনেস) সনদের মেয়াদ শেষ হলে রুট পারমিটের কার্যকরিতা থাকবে না।

এতে আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে রুট পারমিট দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আবেদন রুট পারমিট পাওয়ার যোগ্য না হলে তা সরাসরি নামঞ্জুর করে আবেদনকারীকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় যাত্রী ও পণ্যবাহী জাহাজের আলাদা ভাড়া নির্ধারণ পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিআইডব্লিউটিএ যাত্রীদের জন্য কিলোমিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিু ভাড়া এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ধরন অনুযায়ী দূরত্বের ভিত্তিতে টনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণে সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেবে।

এ ক্ষেত্রে নৌযানের মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারবে। পরে ওই ভাড়া প্রস্তাব সরকার অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশ করবে। বিধিমালায় ভাড়ার টিকিটের নমুনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন উৎসব- ঈদ, পূজা-পার্বণ এবং নৌবিহার, শিক্ষা সফর, পিকনিক, বিবাহ বিভিন্ন উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ বিশেষ নৌসার্ভিস চলার অনুমতি দিতে পারবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here