ঠাকুরগাঁওয়ে ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা ঝাপিয়ে পরে রোগীদের উপর

0
115
ঠাকুরগাঁওয়ে ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা ঝাপিয়ে পরে রোগীদের উপর
ছবিঃ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।

খবর৭১ঃ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে ঔষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের জ্বালায় অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। ডাত্তারের কক্ষ থেকে চিকিৎসার পরামর্শ নেয়া শেষে কক্ষ থেকে বের হলেই ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে ঝাপিয়ে পড়েন তারা। রোগীর জরুরি মুহূর্তও আমলে নেন না।

তাদের উদ্দেশ্য, উপহারপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন কিনা, সেটা দেখা। এতে রোগী বিরক্ত বা রোগীর প্রাইভেসি নষ্ট হলেও তাদের কিছু আসে যায় না। একাধিক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, যে চিকিৎসক যে ওষুধ কোম্পানির ভক্ত, সে চিকিৎসক অন্য ভালো কোম্পানির ওষুধের নাম লেখেন না। কারণ, চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে অবস্থানরত কোম্পানির প্রতিনিধিরা যদি দেখেন, তাদের কোম্পানির ওষুধের নাম লেখা হচ্ছে না, তখন তারা তদবির শুরু করেন। চিকিৎসকরা যাতে তাদের কোম্পানির ওষুধের নাম লেখেন, সে জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। এটি উপহার সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে চিকিৎসকদের খুশি রাখার প্রতিযোগিতা। এই উপহার কলম, প্যাড থেকে শুরু করে ঘরে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, এমনকি বিদেশ ভ্রমণ পর্যন্ত গড়ায়। এ বিষয়ে একাধিক চিকিৎসক বলেন, কোম্পানি উপহার দিতেই পারে। অনেকে গ্রহণ করেন আবার অনেকে গ্রহণ করেন না। তাদের কথায় কেউ ওষুধ লেখেন না।

যে রোগীর জন্য যে ওষুধ প্রয়োজন, সে ওষুধই দেওয়া হয়ে থাকে। এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, রোগী বা স্বজনদের বিরক্ত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই তাদের। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতেই তাদের এ প্রচেষ্টা। এটিই তাদের চাকরি। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলা অন্যায়। এতে রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হয়। চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর রোগী ওষুধ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। সে সময়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আগামী সপ্তাহ থেকে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে কোনো ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে পারবেন না।

সে সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নতুন চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়া অন্য কোথাও কোনো বিক্রয় প্রতিনিধিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট সবাইকে লিখিতভাবে জানানো হবে। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রভাষ কুমার রায় বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। আশা করি, আগামীতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা কোনো রোগীর ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলতে আসবেন না। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, এই অনৈতিক চর্চার কারণে রোগীর কোনো লাভ হচ্ছে না। উল্টো ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের চাপে থাকছেন চিকিৎসকরা। তাই আমাদের একত্র হয়ে এ কাজ বন্ধ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here