নুসরাত হত্যাকাণ্ডঃ জামিন হয়নি ওসি মোয়াজ্জেমের, ৪০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

0
65
জামিন হয়নি ওসি মোয়াজ্জেমের, ৪০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

খবর৭১ঃ

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে জামিন দেননি হাইকোর্ট। তবে আগামী ৪০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় তার জামিন বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত।

জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার, আইনজীবী আহসান উল্লাহ ও আইনজীবী রানা কাওসার। মূল মামলার বাদী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য ৩ নভেম্বর দিন রেখেছিলেন আদালত।

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ‘অসম্মানজনক’ কথা বলায় ও তার জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গত ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

জামিন হয়নি ওসি মোয়াজ্জেমের, ৪০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ
সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ৩০ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। গত ২৭ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানার পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। একই দিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে আসামি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ১৭ জুন তাকে ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে করা হয়। ওইদিনই মোয়াজ্জেমকে আদালতে হাজির করে। পরে তিনি জামিন আবেদন করলে তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত ১৭ জুলাই সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর থানার ওসির কক্ষে ফের হয়রানির শিকার হতে হয় নুসরাতকে। ‘নিয়ম না মেনে’ জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দু’জন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here