চুরি যাওয়া বাইসাইকেল উদ্ধার করতে গেলে বখাটেদের পিটুনি; সৈয়দপুরে শ্রমিকের মৃত্যু

0
122
চুরি যাওয়া বাইসাইকেল উদ্ধার করতে গেলে বখাটেদের পিটুনিতে সৈয়দপুরে শ্রমিকের মৃত্যু
ছবিঃ মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে।

খবর৭১ঃ

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকেঃ সৈয়দপুরে সংঘবদ্ধ বখাটেদের হামলায় সোহেল (২৫) নামে এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। নিহত শ্রমিকের নাম মো. সোহেল(২৫)। গতকাল বুধবার রাতে চুরি যাওয়া বাইসাইকেল শনাক্তের পর উদ্ধার করতে গিয়ে ওই হামলার ঘটনা ঘটে শহরের চাঁদনগর এলাকায়। এ ঘটনায় সোহেলের ৫ জন বন্ধু আহত হয়।

বখাটেরা সোহেলসহ তার বন্ধুদের এলোপাতারি মারপিট করতে থাকলে তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। পরে সোহেলসহ আহত অন্যদের স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সোহেলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যায় সে। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জড়িতরাসহ তাদের পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত সোহেলের পিতা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬/৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে আসামী করে সৈয়দপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়া মহল্লার রং মিস্ত্রী মো. সাইদুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল। ঘটনার দিন গত বুধবার বিকালে তাঁদের বাড়ির সামনে থেকে তাঁর বাইসাইকেলটি চুরি যায়। চুরি যাওয়া বাইসাইকেলটি খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে সোহেল জানতে পারে মুন্সীপাড়ার জনৈক মো. কাল্লুর ছেলে মো. ফয়সাল তাঁর বাইসাইকেলটি চুরি করেছে। এ অবস্থায় ওই দিন রাত ৮টার দিকে সোহেল তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ফয়সালসহ বখাটেদের আড্ডাখানা চাঁদনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে যায়। সেখানে গিয়ে সে তার বাইসাইকেলটি চিহ্নিত করে সেটি ফেরত চাইলে সোহেল ও ফয়সালের মধ্যে প্রথমে তুমুল কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফয়সাল ও তাঁর তিন ভাই সনু, জনি ও রকিসহ সেখানে উপস্থিত আরো ১৫/২০ জন মিলে সোহেলকে লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক এলোপাতারি মারপিট করে।

খবর পেয়ে সোহেলকে উদ্ধার করতে গিয়ে বখাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় ইউসুফ, জনি, রশিদুল ও সনুসহ সোহেলের অন্যান্য বন্ধুরা আহত হয়। খবর পেয়ে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। এরপর মারাত্মক আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। নিহত সোহেলের স্ত্রী সানা ও দেড় বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

এরপর সেখান থেকে সকল প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে তাঁর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। তাঁর স্ত্রী ও বাবা-মায়ের কান্নায় সেখানে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। এ সময়ে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আর চুরি যাওয়া সাইকেল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহেলের মৃত্যুর ঘটনাটি অল্প সময়ে গোটা শহরে চাউর হয়ে পড়েন। নিহত সোহেলের স্ত্রী সানা স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে গণমাধ্যম কর্মী ও পুলিশের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সোহেলের পিতা রং মিস্ত্রী সাইদুল ইসলাম পুত্র হত্যার বিচার চেয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন প্রশাসনের প্রতি।

এদিকে, খবর পেয়ে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল নিহতের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি নিহত সোহেলের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সান্তনা দেন। তিনি জানান, সোহেল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার বর্ণনা শোনেন। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহাজাহান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here