করোনার নতুন রেকর্ড: একদিনেই ২৪২ জনের মৃত্যু

0
76
করোনার নতুন রেকর্ড: একদিনেই ২৪২ জনের মৃত্যু

খবর৭১ঃ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চীনে বুধবার (১২ফেব্রুয়ারি) একদিনে সর্বোচ্চ ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে সর্বোচ্চ নিহতের সংখ্যা। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৪৮০ জন। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসে নিহত ১৩৬৮ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৩২ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন।

তবে চীনের স্বাস্থ্য কমিশন আশার কথা জানিয়ে বলেছে, করোনায় আক্রান্তের পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৬৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া ২০ হাজারের বেশি লোককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৬৯৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে করোনাভাইরাসের বিষয়ে লাইভ আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডমিটার এই তথ্য জানিয়েছে।

এরই মধ্যে চীনের সকল প্রদেশে শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। নিহতদের বেশিরভাগই হুবেই প্রদেশের। প্রদেশটির উহান শহর থেকেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। সংক্রমণ ঠেকাতে হাসপাতাল নির্মাণ, করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট আবিষ্কারে সরকারি অনুমোদনসহ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আতঙ্কে জনমানবশূন্য ভৌতিক এলাকায় পরিণত হয়েছে চীনের একেকটি গ্রাম ও শহর।

রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উহান শহরে স্টেডিয়াম, কনফারেন্স সেন্টারসহ কয়েকটি ভেন্যুকে অস্থায়ী হাসপাতালে পরিণত করা হয়েছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় শুরু থেকে তাদের অবহেলা ও দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছে চীন। হুবেই প্রদেশের রাস্তা-ঘাট, অলি-গলিতে ওষুধ ছিটাচ্ছে প্রশাসন। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন মেডিকেল স্টাফরা। যাদেরকে সন্দেহ হচ্ছে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে চীনের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথ গবেষণা চালিয়ে প্রাথমিক প্রতিষেধক তৈরি করেছেন। যেটি ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে প্রথমিক ধাপে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এটি যদি করোনা সারাতে কার্যকরীও হয় তবুও বেশ কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ২৭টি দেশে শনাক্ত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও। বিভিন্ন দেশ বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ নজরদারি জারি করেছে। এছাড়া প্রাথমিকভাবে কাউকে সন্দেহ হলে তাকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here